ঢাকা শুক্রবার, ১৮ জুন ২০২১

Motobad news

'জীবনে এই প্রথম ত্রাণের জন্য লাইনে দাড়ালাম'

'জীবনে এই প্রথম ত্রাণের জন্য লাইনে দাড়ালাম'

কলাপাড়া উপজেলার লালুয়া ইউনিয়নটি সাগর মোহনার রাবনাবাদ চ্যানেলের পাড়ে অবস্থিত। ইউনিয়নের চাড়িপাড়া থেকে বুড়োজালিয়া পর্যন্ত প্রায় সাড়ে সাত কিলোমিটার বাঁধ আগে থেকেই বিধ্বস্ত হয়ে রয়েছে। যার কারণে স্বাভাবিক জোয়ারেও প্লাবিত হয় ইউনিয়নের অধিকাংশ গ্রাম। 

আর ঝড়-জলোচ্ছ্বাস হলে মুহূর্তেই প্লাবিত হয়ে পড়ে পুরো ইউনিয়ন। এবারও ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের কারণে সৃষ্ট জলোচ্ছ্বাসে লালুয়া ইউনিয়নের চান্দুপাড়া, বুড়োজালিয়া, মুন্সিপাড়া, মঞ্জুপাড়া, নাওয়াপাড়া, চাড়িপাড়া, বানাতিপাড়া, পশুরবুনিয়া, হাসনাপাড়া, ছোট পাঁচ নং, বড় পাঁচ নং গ্রামসহ অন্তত ১১টি গ্রাম প্লাবিত হয়। 

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে চান্দুপাড়া গ্রামের বাসিন্দারা। গ্রামবাসীর ঘরবাড়ি ভেঙে গেছে। অনেকের ঘের, পুকুরের মাছ জোয়ারের পানির সঙ্গে ভেসে গেছে। গ্রামের বাসিন্দারা জানান, কাজকর্ম না থাকায় ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের পর থেকে কষ্টে দিন পার করতে হচ্ছে তাঁদের। অনেকের পরিবারে খাদ্যসংকট দেখা দিয়েছে। 

এসব গ্রামের মানুষজনের বাড়িঘর, গ্রামীণ মেঠোপথ, চাষযোগ্য কৃষিজমি এখনো জোয়ারের পানিতে তলিয়ে রয়েছে। চরচান্দুপাড়া গ্রামের বকফুল বেগম (৬০) বলেন, এ বয়সে এতো ঝড় বন্যা অতিক্রম করেছি।

কখনই কোনো ত্রাণের জন্য ল্যাইনে দাড়াইনি। এই জীবনে প্রথমে ল্যাইনে ত্রাণ নিলাম।  মুই কহনো সহায়তার জন্য কারো কাছে হাত বাড়াইনি ভ্যান চালাইয়া আয়- রোজগার কইরা হেই আয়ের পথটা বন্ধ হইয়া গেছে। জীবনে এই প্রথম ত্রানের লইগ্যা লাইনে দাঁড়িয়েছি।

আপনাগো ত্রাণে মোরা আমাগো উপকার হইছে। লালুয়া ইউনিয়নের মুক্তিযোদ্ধা বাজারের মঙ্গলবার (৮জুন) সকাল দশটায় খাদ্যসহায়তা প্যাকেট বিতরণ প্রথম আলো ট্রাষ্টের উদ্যোগে। এসময় লালুয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোঃ শওকত হোসেন তপন বিশ্বাস, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মোঃ তারিকুল ইসলাম খান, সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ আবদুল হক মৃধা প্রথম আলো পত্রিকার কলাপাড়া প্রতিনিধি নেছার উদ্দিন আহমেদ টিপুসহ গন্যমান্য ব্যাত্তিবর্গ উপস্হিত ছিলেন। 

চান্দুপাড়া গ্রামের বাসিন্দা শাহিদা বেগমের (৫৫) সংসারে অসুস্থ স্বামী, দুই মেয়ে লালুয়া ইউপি চেয়ারম্যান শওকত হোসেন বিশ্বাস বলেন, আসলে ত্রাণের চেয়েও জরুরি গ্রামের মানুষের জানমাল রক্ষায় বাঁধ নির্মাণ। অথচ তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কারও কোনো চিন্তা আছে বলে মনে হয় না। 

বাঁধ না থাকায় এখনো ইউনিয়নের অধিকাংশ গ্রাম লবণপানিতে তলিয়ে আছে। এবার পরিস্থিতি এতটাই খারাপ, মানুষজন জমিজমা চাষ করতেও পারবেন না।জমাজমি চাষাবাদ না হলে ভবিষ্যতে মানষের খাদ্যাভাব দেখা দিবে। এছাড়া এলাকার স্কুল- কলেজ ছাত্রীদের লেখাপড়ার খরচ বহনে দারুনভাবে বিপাকে পড়তে হবে। 


এইচকেআর