ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬

Motobad news
নিরাপদ পানি-স্যানিটেশন

বিশ্বব্যাংকের ঋণে নেওয়া প্রকল্পে বেহালদশা, ঠিকাদারদের শাস্তি দাবি

বিশ্বব্যাংকের ঋণে নেওয়া প্রকল্পে বেহালদশা, ঠিকাদারদের শাস্তি দাবি
ফাইল ছবি
গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

দেশের পৌর এলাকায় নিরাপদ পানি সরবরাহ স্যানিটেশন সুবিধা দিতে পৌরসভার সক্ষমতা বাড়াতে প্রকল্প নিয়েছে সরকার। এই প্রকল্পের আওতায় বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে ১০ কোটি ডলারের ঋণচুক্তি সই হয়েছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ৮৬০ কোটি টাকা। অথচ ঋণের টাকায় নেওয়া প্রকল্পে গতি নেই। একে একে তিন বছর চার মাস অতিবাহিত হলেও প্রকল্পের আর্থিক অগ্রগতি মাত্র ২৪ দশমিক ৫২ শতাংশ এবং ভৌত অগ্রগতি ২৬ শতাংশ।

মূলত প্রকল্পের আওতায় নিয়োজিত ঠিকাদারদের গাফিলতির কারণেই কাজে ধীরগতি। এসব ঠিকাদারের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে তা জানতে চায় পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি)। এমনকি ঠিকাদারদের শাস্তি দিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে আইএমইডির প্রতিবেদনে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর।


সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দেশের ৩০টি পৌরসভায় পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন শীর্ষক চলমান প্রকল্পের কার্যক্রম আইএমইডির সহকারী পরিচালক সাইদুর রহমান সরেজমিন পরিদর্শন করেন। হবিগঞ্জের কয়েকটি এলাকা পরিদর্শন করেন তিনি। এসব এলাকার পৌরসভার কাজের অগ্রগতি খুবই শ্লথ।

আইএমইডির সহকারী পরিচালক সাইদুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, প্রকল্পের কিছু এলাকা ভিজিট করেছি। সেই ধারাবাহিকতায় মৌলভীবাজার গিয়েছিলাম। সেখানে দেখেছি পৌরসভার এই প্রকল্পের কাজে গতি নেই বলা চলে। মূলত ঠিকাদারদের কারণেই এমনটা হয়েছে। এজন্য ঠিকাদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সুপারিশ করেছি। এরই মধ্যে আমাদের সিদ্ধান্তের কথা মন্ত্রণালয়কে জানিয়ে দিয়েছি।


প্রকল্প শুরুর পর ৩ বছর ৪ মাস সময় পেরিয়ে গেলেও সমাগ্রিক কাজের অগ্রগতি মাত্র ১৪ দশমিক ৫২ শতাংশ। চলতি বছরের (২০২৩ সালের) ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকল্পের সব কাজ শেষ করতে হলে সঠিক কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন জরুরি। সে অনুযায়ী সব কাজ বাস্তবায়ন করতে হবে।

এদিকে, মৌলভীবাজারের বড়লেখা পৌরসভার ড্রেনেজ নির্মাণকাজ শুরু না করার বিষয়ে ঠিকাদারের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে- সে বিষয়ে আইএমইডিকে অবহিত করতে বলা হয়েছে। পিপিজার ২০০৮ এর ৩৯ (১) ধারা অনুযায়ী ঠিকাদারের মাধ্যমে কতটা কাজ সম্পন্ন হয়েছে তা জানতে চাওয়া হয়েছে।

আইএমইডির পরিদর্শনে দেখা গেছে, মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ পৌরসভায় নির্মাণাধীন ওভারহেড ট্যাঙ্ক ও অফিস বিল্ডিং নির্মাণকাজে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে। সেখানে ব্যবহার করা বালু, পাথর ও ইটের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এগুলোর পরিবর্তে মানসম্পন্ন নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করতে বলা হয়েছে।

বিশ্বব্যাংকের ঋণে নেওয়া এ প্রকল্পে ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে ৩টি এবং ২০২০-২০২১ অর্থবছরে ৮টি অডিট আপত্তি আসে। এগুলোর মধ্যে ৪টি অডিট আপত্তির নিষ্পত্তি হয়। বাকি অডিট আপত্তি অনিষ্পন্ন রয়েছে, যা দ্রুত নিষ্পত্তি করে আইএমইডিকে অবহিত করতে বলা হয়েছে।


এইচকেআর
গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন