ঢাকা সোমবার, ০১ জুন ২০২৬

Motobad news

জনবল সংকট, ২০ বছরেও চালু হয়নি পটুয়াখালীর কাঠালতলী হাসপাতাল

জনবল সংকট, ২০ বছরেও চালু হয়নি পটুয়াখালীর কাঠালতলী হাসপাতাল
গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

জনবল সংকটের কারণে গত ২০ বছরেও পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হয়নি পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার কাঠালতলী ২০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল। ফলে হাতের কাছে হাসপাতাল থাকলেও চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হয়ে দূরদূরান্তে ছুটতে হচ্ছে এলাকার প্রায় ৩০ হাজার মানুষকে। এছাড়া ব্যবহার না হওয়ায় নষ্ট হয়ে যাচ্ছে হাসপাতালের অবকাঠামো, যন্ত্রপাতি ও অন্যান্য সরঞ্জাম।

২০০৬ সালের শেষ দিকে পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার কাঠালতলী এলাকায় ২০ শয্যা বিশিষ্ট এ হাসপাতালটির কার্যক্রম শুরু হয়। তৎকালীন বিএনপি সরকারের বাণিজ্যমন্ত্রী এয়ার ভাইস মার্শাল আলতাফ হোসেন চৌধুরী এটি উদ্বোধন করেন। তিন একর জমির ওপর নির্মিত হাসপাতাল কম্পাউন্ডে মূল ভবনের পাশাপাশি চিকিৎসক, নার্স ও স্টাফদের জন্য ছয়টি একতলা বাসভবন রয়েছে।

 
এছাড়া অ্যাম্বুলেন্সের জন্য গ্যারেজ এবং জেনারেটরের জন্য রয়েছে পৃথক ভবন। চালুর পর এখানে বেডসহ সব ধরনের যন্ত্রপাতি আনা হয়। শুরুতে কিছুদিন বহির্বিভাগে সেবা দেয়া হলেও আন্তঃবিভাগ চালুর আগেই সরকার পরিবর্তনের কারণে হাসপাতালটির কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।
 
হাসপাতালটিতে আবাসিক মেডিকেল অফিসার ১ জন, সার্জারি, মেডিসিন, গাইনি ও অ্যানেস্থেশিয়া বিভাগে ৪ জন জুনিয়র কনসালটেন্ট এবং মেডিকেল অফিসার পদে ৫ জনের পদ থাকলেও বর্তমানে কেউই কর্মরত নেই। শূন্য রয়েছে নার্সিং সুপারভাইজার, ২ জন উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার, ৪ জন মিডওয়াইফ, ফার্মাসিস্ট, ৩ জন মেডিকেল টেকনোলজিস্টসহ আরও ৫টি পদ।
 
১৪ জন সিনিয়র স্টাফ নার্সের বিপরীতে পদায়ন রয়েছে মাত্র ৩ জন। মোট ৪১টি পদের মধ্যে মাত্র ৩ জন কর্মরত থাকায় হাসপাতালটির কার্যক্রম কার্যত মুখ থুবড়ে পড়েছে। ব্যবহার না হওয়ায় অধিকাংশ যন্ত্রপাতি অকেজো হয়ে পড়েছে। ভবনগুলোর বেশিরভাগ কক্ষ দীর্ঘদিন তালাবদ্ধ থাকায় সেখানে স্যাঁতসেঁতে অবস্থা বিরাজ করছে।
 
কয়েক কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এ হাসপাতাল থেকে এতদিন ন্যূনতম সেবাও পাননি স্থানীয়রা। হাসপাতালটি দ্রুত জনবল নিয়োগের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা সেবা চালুর দাবি তাদের। স্থানীয় কালাম মৃধা বলেন, রাতে কেউ অসুস্থ হলে ভয়াল পায়রা নদী পাড়ি দিয়ে পটুয়াখালী নিতে হয়। অনেক সময় খেয়া না থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়।
 
স্থানীয় আবুল বাসার বলেন, অসুস্থ হলে তাদের বরিশাল অথবা পটুয়াখালী যেতে হয়। কিন্তু অ্যাম্বুলেন্স না থাকায় অনেক সময় রোগী নিয়ে বিপাকে পড়তে হয়, কখনো পথেই বড় দুর্ঘটনা ঘটে যায়।
 
হাসপাতালটির মেডিকেল অফিসার ডা. গাজী এজাজ আহমেদ বলেন, গত ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর প্রেষণে ১ জন মেডিকেল অফিসার, ১ জন উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার ও ৩ জন নার্স দিয়ে বহির্বিভাগে চিকিৎসা সেবা শুরু হয়েছে। তবে কবে নাগাদ এটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হবে তা নিশ্চিত নয়।
 
পটুয়াখালী সিভিল সার্জন ডা. খালেদুর রহমান মিয়া বলেন, এরই মধ্যে সংস্কার ও অর্থনৈতিক কোড চালুর জন্য আবেদন করা হয়েছে। পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হলে জনবল সংকট অনেকটা দূর হবে।


 


এইচকেআর
গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন