ঢাকা রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬

Motobad news

বরিশালে চাঁদা না পেয়ে ঠিকাদারের মোটরসাইকেল নিয়ে গেলেন বিএনপি নেতা!

বরিশালে চাঁদা না পেয়ে ঠিকাদারের মোটরসাইকেল নিয়ে গেলেন বিএনপি নেতা!
গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

বরিশালে সড়ক নির্মাণকাজে বাধা দিয়ে ঠিকাদারের কাছে তিন লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক বিএনপি নেতাসহ চারজনের বিরুদ্ধে। দাবিকৃত টাকা না পেয়ে ঠিকাদারকে মারধর করে তার ব্যবহৃত মোটরসাইকেল নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।

এ ঘটনায় বিএনপির ওই নেতাসহ চারজনের নাম উল্লেখ করে রোববার (৮ নভেম্বর) বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের এয়ারপোর্ট থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী ঠিকাদার মো. রুস্তম হাওলাদার (৪৮)। 

এর আগে শনিবার (৭ নভেম্বর) রাত সাড়ে ৭টার দিকে বাবুগঞ্জ উপজেলার মাধবপাশা ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাদলা প্রাথমিক বিদ্যালয়সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযুক্তরা হলেন- মো. মাহবুব মোল্লা (৪৫), মো. সাকিব হাওলাদার (৩৫), মো. সজিব হাওলাদার (২৫) ও মো. মুবিন মোল্লা (২২)। তাদের সবার বাড়ি মাধবপাশা ইউনিয়নে। প্রধান অভিযুক্ত মাহবুব মোল্লা ওই ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, রুস্তম হাওলাদার এয়ারপোর্ট থানাধীন মাধপাশা ইউনিয়নের বাইপাস-হাদিবাসকাঠীর ২৬শ মিটার পিচ ঢালাই সড়কের নির্মাণকাজে সাবঠিকাদার হিসেবে নিয়োজিত রয়েছেন। গত শনিবার রাতে বাদলা প্রাথমিক বিদ্যালয়সংলগ্ন মাঠে যাওয়ার পথে অভিযুক্তরা তার নির্মাণকাজে বাধা দেন। এ সময় কাজ চালিয়ে যেতে হলে তিন লাখ টাকা দিতে হবে বলে দাবি করেন তারা।

অভিযোগে বলা হয়, দাবিকৃত টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে অভিযুক্তরা তাকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল ও হুমকি দেন। একপর্যায়ে তাকে মারধর করা হয়। এ সময় তার ছেলেসহ সঙ্গে থাকা অন্যদেরও মারধর ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ রয়েছে। পরে তার ব্যবহৃত একটি ডিসকভার মোটরসাইকেল নিয়ে যান অভিযুক্তরা। মোটরসাইকেলটির আনুমানিক মূল্য এক লাখ ১০ হাজার টাকা।

ঠিকাদার রুস্তম হাওলাদার বলেন, বিএনপির ওয়ার্ড সাধারণ সম্পাদক মাহবুব মোল্লা আমার কাছে তিন লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। টাকা দিতে অপারগতা জানালে তিনি লোকজন পাঠিয়ে আমাকে মারধর করান এবং আমার মোটরসাইকেলটি ছিনিয়ে নিয়ে যান। অভিযুক্তরা এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে বিভিন্ন অপকর্মে জড়িত। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপি নেতা মাহবুব মোল্লা মোটরসাইকেল নিয়ে যাওয়ার কথা স্বীকার করেন। তিনি বলেন, আমি রুস্তমের কাছে টাকা পাই। ওই সড়কের কাজে আমি পার্টনার (অংশীদার) আছি। পাওনা টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় মোটরসাইকেলটি এনে নিজের কাছে রেখেছি।

পাওনা টাকা আদায়ে মোটরসাইকেল নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি আইনসম্মত কি না? জানতে চাইলে মাহবুব মোল্লা বলেন, বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতারা বসে বিষয়টি মীমাংসা করে দেবেন।

এ বিষয়ে এয়ারপোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, চাঁদার টাকা না পেয়ে মোটরসাইকেল নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগটি তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


এইচকেআর
গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন