ঢাকা রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬

Motobad news
শিরোনাম
  • বরিশাল সিটি করপোরেশনের নতুন প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন বন্ধ পাটকলগুলো চালু করে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করার পরিকল্পনা রয়েছে:  বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী  আমতলীতে স্বাধীনতার ৫৪ বছরেও হয়নি ব্রিজ নির্মাণ, ৫০ হাজার মানুষের ভরসা বাঁশের সাঁকো   ঝিনাইদহে জামায়াতের সঙ্গে সংঘর্ষে বিএনপি কর্মী নিহত অবকাশকালেও চলবে জরুরি বিচার, আপিল বিভাগে বসবে চেম্বার কোর্ট  ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সম্মানী কার্যক্রমের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী টানা তিনদিন কমলো সোনার দাম, ভরি ২ লাখ ৬২ হাজার ঝালকাঠিতে ১২০ গাছ কাটার পর স্থগিত ২ হাজার গাছ কাটার প্রকল্প দেশব্যাপী খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন ১৬ মার্চ ইরানের হামলায় ইসরায়েলে নিহত ১২, আহত প্রায় ৩ হাজার
  • বয়স্ক ভাতার তালিকায় নেই নাম

    বাউফলে ৮০ বছরের দরিদ্র বৃদ্ধ ইট ভেঙে চালান সংসার

    বাউফলে ৮০ বছরের দরিদ্র বৃদ্ধ ইট ভেঙে চালান সংসার
    গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

    ৮০ বছরের বৃদ্ধ মো. নূরু আকন। বসত ভিটে ছাড়া তাঁর কিছুই নাই।সরকারি কোনো ভাতার তালিকায় তাঁর নাম নাই। তাই বয়য়ের ভারে ন্যুব্জ হয়ে গেলেও বাঁচার তাগিদে তিনি ইট ভাঙার মত কঠিন কাজ করেন। সেই কাজ করার সুযোগও এখন বন্ধ হওয়ার পথে। অধিকাংশ মানুষ এখন ইট ভাঙেন যন্ত্রচালিত মেশিনে। এ কারণে স্ত্রী হাজেরা বেগমকে (৬৫) নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন তিনি।

    পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলা সদেরর বাউফল সরকারি কলেজের পশ্চিম পাশ এলাকায় ছোট্র একটি টিনের ঘরে নূরু আকন ও হাজেরা বেগমের বসবাস। এক ছেলে ও দুই মেয়ে। দুই মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন। ছেলে বিয়ে করে ঢাকায় ম্রমিকের কাজ করেন। তাঁরাও ভালো অবস্থায় নাই।

    সম্প্রতি বাউফল পৌরসভার মুসলিমপাড়া সড়কে ইট ভাঙার কাজ করছিলেন নুরু আকন।তখন কথা হয় তাঁর সঙ্গে। তিনি আক্ষেপের সুরে বলেন, বয়সের কারণে ইট ভাঙতে অনেক কষ্ট হয়।কিন্তু কি কইরা খামু? বয়স্ক ভাতায় নাম দিতে হইলে টাহা (টাকা) লাগে। নাম দেওনের লইগা মহিলা কমিশনার (নারী কাউন্সিলর) পাঁচ হাজার টাহা চাইছিল। দিতে পারি নাই। হেই লইগা আর বয়স্কভাতায় নাম দেয় নাই।

    নুরু আকন আরও বলেন,আগে প্রতিদিন ইট ভেঙে সাড়ে তিনশ থেকে চারশ টাকা পেতেন।এহন ইট ভাঙার কাম (কাজ) কম। হক্কোলে (সবাই) মেশিন দিয়া ইট ভাঙে। বয়সের লইগা এখন আর আগের লাহান (মত) ইট ভাঙতে পারি না। রোজ দেড়শ থেকে দুইশ টাহা পাই।হেইয়া দিয়ে চলতে খুবই কষ্ট হয়।  অনেক সময় না খাইয়াও থাকতে হয়।অসুখ (রোগ) অইলে টাহার অভাবে চিকিৎসা করাইতে পারি না। বাবা (সাংবাদিক) আমারে বয়স্কভাতায় একটা নাম দেওনের ব্যবস্থা কইরা দেন।

    খোঁজ নিয়ে জানা গেছে,সরকারি ভাতাভোগীদের কোনো তালিকায়ই নাম নাই নূরু আকন ও তাঁর স্ত্রী হাজেরা বেগমের।হাজেরা বেগম অন্যের ঘরে ঝিয়ের কাজ করেন।

    উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান দুঃখপ্রকাশ করে বলেন,‘সংশ্লিষ্ট এলাকার জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে তাঁর কাছে তালিকা আসে। তাঁর (নূরু) নাম বয়স্কভাতার তালিকায় কেউ দেয়নি।’

    এ বিষয়ে বাউফল পৌরসভার মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. জিয়াউল হক বলেন,‘তিনি (নুরু আকন) যে বয়স্কভাতা পান না, তা আমার জানা ছিল না।তাঁর মত দরিদ্র ও বয়স্ক মানুষ বয়স্কভাতার তালিকায় নাম না থাকাটা খুবই দুঃখজনক। পরবর্তী বয়স্ক ভাতার তালিকায় তাঁর নাম অন্তর্ভূক্তির যাবতীয় ব্যবস্থা করা হবে।’


    এইচকেআর
    গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ